লিওনেল মেসির প্রশংসা করতে করতে যেন শব্দ ভাণ্ডারই ফুরিয়ে এসেছে আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনির। বিশ্বকাপে একের পর এক দুর্দান্ত পারফরম্যান্স উপহার দেওয়া এই মহাতারকাকে নিয়ে নতুন কিছু বলাই এখন কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে তার জন্য।
জর্ডানের বিপক্ষে ম্যাচে শুরু থেকেই মেসিকে মাঠে নামাননি স্কালোনি। এর আগে আলজেরিয়া ও অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে টানা দুই ম্যাচে পাঁচ গোল করেছিলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। তাই নকআউট পর্বের কথা মাথায় রেখে তাকে বিশ্রাম দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কোচিং স্টাফ। তবে দ্বিতীয়ার্ধের ৬০তম মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নেমেই নিজের উপস্থিতির জানান দেন মেসি। দুর্দান্ত এক ফ্রি-কিকে বিশ্বকাপে নিজের ষষ্ঠ গোলটি করে দলকে আরও এগিয়ে দেন তিনি।
অল্প সময় মাঠে থেকেও পুরো স্টেডিয়াম মাতিয়ে রাখেন মেসি। তাই ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনের বড় একটি অংশজুড়েই ছিল তাকে নিয়ে আলোচনা। কিন্তু সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্কালোনি স্বীকার করেন, মেসিকে নিয়ে মন্তব্য করা এখন তার জন্য সহজ নয়।
তিনি বলেন, মেসিকে নিয়ে যখন আমাকে প্রশ্ন করা হয়, তখন সত্যিই একটু অস্বস্তিতে পড়ে যাই। কারণ তার পারফরম্যান্স নিয়ে নতুন করে কী বলব, সেটাই বুঝে উঠতে পারি না।
মেসিকে শুরুর একাদশে না রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েও ব্যাখ্যা দেন আর্জেন্টিনা কোচ। তার মতে, প্রয়োজন হলে মেসি পুরো ম্যাচই খেলতে পারতেন। কিন্তু সামনে আরও কঠিন লড়াই থাকায় তাকে বিশ্রাম দেওয়াই ছিল সবচেয়ে যৌক্তিক সিদ্ধান্ত।
স্কালোনির ভাষায়, সে ৯০ মিনিট খেলতে সক্ষম ছিল। তবে আমরা চেয়েছিলাম অন্য খেলোয়াড়রাও নিজেদের প্রমাণের সুযোগ পাক। একই সঙ্গে সামনে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ রয়েছে, তাই মেসির ফিটনেসও ধরে রাখা জরুরি ছিল।
জর্ডানের বিপক্ষে গোল করে বিশ্বকাপের ইতিহাসে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছেন মেসি। প্রথম ফুটবলার হিসেবে টানা সাতটি বিশ্বকাপ ম্যাচে গোল করার রেকর্ড গড়েছেন তিনি। পাশাপাশি বিশ্বকাপে তার মোট গোলসংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৯।
তবে এসব পরিসংখ্যান নিয়ে খুব একটা ভাবেন না স্কালোনি। তার কাছে মেসির রেকর্ডের চেয়েও বড় বিষয়, প্রতিবার মাঠে নেমে তিনি যেভাবে দর্শকদের মুগ্ধ করেন।
স্কালোনি বলেন, সবাই সংখ্যার হিসাব করছে, কিন্তু মেসি নিজে এসব নিয়ে খুব একটা চিন্তা করে না। আর আমি? তার খেলা দেখে এখনো শুধু একটাই অনুভূতি হয়—বিস্ময়।


